empty
 
 
21.01.2026 08:00 AM
২১ জানুয়ারি কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

মঙ্গলবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

মঙ্গলবারও EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় ছিল এবং মূল্য ডিসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল। ফলে সকালেই এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে গ্রিনল্যান্ড দ্বীপকে কেন্দ্র করে চলমান ঘটনাসমূহের কারণে ট্রেডাররা মার্কিন ডলার থেকে মুক্তি পেতে চায়। স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্বীপটি আমেরিকার কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করার দাবি জানিয়েছিলেন, যদিও তাঁর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে প্ররোচিত করতে ট্রাম্প কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের পণ্যের ওপর আবারও 10% শুল্ক আরোপ করেন, যা কার্যত গত বছর স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে অকার্যকর করে তুলেছে। ইইউ নিকট ভবিষ্যতে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ পুনরায় জ্বলে উঠেছে এবং ডলার দরপতনের সম্মুখীন হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত সামষ্টিক প্রতিবেদনের মধ্যে জার্মানি ও ইউরোজোনের ZEW ইনস্টিটিউটের দুইটি বিজনেস সেন্টিমেন্ট সূচক উল্লেখযোগ্য ছিল; উভয় সূচকের ফলাফল ইতিবাচক ছিল, যা ইউরোকে সহায়তা করেছে। খুব শীঘ্রই এই পেয়ারের মূল্য 1.1800–1.1830 এরিয়ায় ফিরে যেতে পারে, যা 1.1400–1.1830-এর সাইডওয়েজ চ্যানেলের উপরের সীমা।

EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

This image is no longer relevant

মঙ্গলবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। সকালে এই পেয়ারের মূল্য 1.1655–1.1666 এরিয়ার ওপর কনসোলিডেট করে, যা নতুন ট্রেডারদের লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ দিয়েছে। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এই পেয়ারের মূল্য 1.1745–1.1754-এর লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়। সেই এরিয়া থেকে সংঘটিত রিবাউন্ডকে সেল সিগন্যাল হিসেবে বিবেচনা করা যেত এবং শর্ট পজিশন ওপেন করা সম্ভব ছিল; দিনের শেষে সেই ট্রেডগুলো সামান্য লাভের সাথে ক্লোজ করা যেত।

বুধবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে এই পেয়ারের মূল্য সম্ভবত 1.1400–1.1830-এর সাইডওয়েজ চ্যানেলের উপরের সীমার দিকে ফিরে যাবে এবং তা পুনরায় ব্রেক করার চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে যেতে চাইবে। মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে সামগ্রিক মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পটভূমি এখনও বেশ নেতিবাচক রয়েছে, তবে দৈনিক টাইমফ্রেমে ফ্ল্যাট- রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট প্রাধান্য বিস্তার করছে এবং ট্রেডাররা কার্যত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে চলেছে।

বুধবার এই পেয়ারের মূল্য 1.1745–1.1754 এরিয়া ব্রেক করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন করে লং পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1800–1.1830-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। গতকালের মতো এই পেয়ারের মূল্য 1.1745–1.1754 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে শর্ট পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1655–1.1666-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলসমূহ বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.1354–1.1363, 1.1413, 1.1455–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1550, 1.1584–1.1591, 1.1655–1.1666, 1.1745–1.1754, 1.1808, 1.1851, 1.1908, 1.1970–1.1988। আজ ইউরোজোনে ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডে বক্তব্য দেবেন; মার্কিন ইভেন্ট ক্যালেন্ডারে তেমন কিছু অন্তর্ভুক্ত নেই। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি এখনও মার্কেটে প্রভাব বিস্তার করছে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.