আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার প্রায় সারাদিন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সাথে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে। দিনের শেষ নাগাদ ইউরোর দর 1.1754 লেভেল ফিরে আসে, যা সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান সাইডওয়েজ চ্যানেল 1.1400–1.1830-এর উপর সীমার খুব কাছাকাছি অবস্থিত। অনেক ট্রেডারের কাছেই ইউরোর দর বৃদ্ধির কারণ নাও স্পষ্ট হতে পারে। গতকাল জানা যায় যে ট্রাম্প ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের ওপর আরোপিত শুল্কগুলো বাতিল করেছেন, যা পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় এই শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়া হয়েছিল। এখন মনে হচ্ছে ভূরাজনৈতিক চাপ হ্রাস পেয়েছে এবং ইইউ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে কোনো বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হবে না বলে আশা করা যায়। তবুও, সারাদিনই ডলারের দরপতন হচ্ছে। গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি প্রতিবেদন একরকম উপেক্ষাই করা হয়েছে — জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার পূর্বাভাস অতিক্রম করেছিল, তবে ট্রেডাররা এটি তেমনভাবে বিবেচনায় নেয়নি। সমস্যা কী? সমস্যা হলো ট্রেডাররা ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত "সংবাদগুলোর" প্রতিক্রিয়া দিতে দিতে ক্লান্ত এবং মার্কিন শ্রমবাজারের দুর্বল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কম সংখ্যক মানুষই বর্তমান মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারকে সত্যি বলে মনে করে। ট্রাম্পের গৃহীত অবস্থানের কারণে ডলারের দরপতন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জ মূলত ট্রেডারদের পক্ষ থেকে মার্কিন ডলারের জন্য একটি উপহার।
বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। দুর্ভাগ্যবশত, এশিয়ান সেশন জুড়ে এই পেয়ারের মূল্য মাত্র 5 পিপসের জন্য 1.1666 লেভেলে পৌঁছাতে পারেনি; না হলে একটি চমৎকার বাই সিগন্যাল গঠিত হতো।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে এই পেয়ারের মূল্য সম্ভবত 1.1400–1.1830-এর সাইডওয়েজ চ্যানেলের উপরের সীমার দিকে ফিরে যাবে এবং তা পুনরায় ব্রেক করার চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে যেতে চাইবে। মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে সামগ্রিক মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পটভূমি এখনও বেশ নেতিবাচক রয়েছে, তবে দৈনিক টাইমফ্রেমে ফ্ল্যাট- রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট প্রাধান্য বিস্তার করছে এবং ট্রেডাররা কার্যত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে চলেছে।
শুক্রবার এই পেয়ারের মূল্য 1.1745–1.1754 এরিয়া ব্রেক করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন লং পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1800–1.1830-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1745–1.1754 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে মূল্যের 1.1655–1.1666-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শর্ট পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলসমূহ বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1808, 1.1851, 1.1908, 1.1970-1.1988। আজ ইউরোজোন, জার্মানি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জানুয়ারি মাসের ম্যানুফ্যাকচারিং ও সার্ভিস সেক্টরের বিজনেস অ্যাক্টিভিটি সূচকসমূহ প্রকাশিত হবে। এছাড়া ইউরোপে ক্রিস্টিনা লাগার্ড ভাষণ দেবেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে কনজিউমার সেন্টিমেন্ট সূচক প্রকাশিত হবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।