আরও দেখুন
মঙ্গলবার পুরো দিন জুড়ে GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট দেখা যায়নি। মধ্যপ্রাচ্য বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে যখন কোনো সংবাদ এলো না, তাই মার্কেটের ট্রেডাররা সঠিকভাবেই অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন সামষ্টিক প্রতিবেদন দ্বারা বিভ্রান্ত হয়নি। মূলত আমরা বারবার উল্লেখ করেছি যে গত এক মাস ধরে ট্রেডাররা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামষ্টিক পটভূমি উপেক্ষা করে চলেছেন। নাহলে মার্কিন ডলারের মূল্য এতটা বাড়তো না। গতকাল এ ব্যাপারে আমরা আবারও নিশ্চিত হয়েছি। যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচকসমূহের ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল ছিল, তবে মোটের উপর এগুলো ব্রিটিশ মুদ্রার জন্য কোনো বড় সমস্যা সৃষ্টি করেনি। মার্কিন সূচকগুলোতেও প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল ফলাফল পরিলক্ষিত হয়েছে, কিন্তু সেগুলোও ট্রেডাররা উপেক্ষা করেছে। সবাই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে। হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনা হ্রাস পাবে, বা এই সামরিক সংঘাত কয়েক মাস ধরে চলতেই থাকবে। তাই GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ভবিষ্যত মুভমেন্ট ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব দ্বারাই নির্ধারিত হবে।
মঙ্গলবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। সারাদিন এই পেয়ারের সামান্য দরপতন হয়েছে, তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় সেশনে নতুন ট্রেডাররা প্রথমে লং পজিশন ওপেন করতে পারতেন এবং পরে শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারতেন। মার্কিন সেশনের সময় 1.3403-1.3407 এরিয়ার আশপাশে আরও দুইটি সেল সিগন্যাল তৈরি হওয়ায় ইতোমধ্যেই ওপেন করা শর্ট পজিশনগুলো বজায় রাখা যেতে পারত। সন্ধ্যার সময়ে সেল ট্রেডগুলো সামান্য লাভের সাথে ম্যানুয়ালি ক্লোজ করা যেত।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হতে শুরু করেছে, তবে এই প্রবণতা খুবই অদ্ভুত ও অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো কারণ নেই, তাই ২০২৬ সালে আমরা ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় চালু হওয়ার প্রত্যাশা করছি, যা এই পেয়ারের মূল্যকে 1.4000-এর দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে এর জন্য আগে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পেতে হবে।
বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3403-1.3407 রেঞ্জের নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3319-1.3331 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3403-1.3407 এরিয়ার ওপরে কনসোলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে যেখানে মূল্যের 1.3437-1.3446 এবং 1.3484-1.3489-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3096-1.3107, 1.3203-1.3212, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3695, 1.3741-1.3751। আজ যুক্তরাজ্যে ফেব্রুয়ারির মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা বেশ গুরুত্বপূর্ণ; তবে মার্কেটের ট্রেডারদের প্রতিক্রিয়া কেবল এই প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করবে না—বরং এর ফলাফলের উপর নির্ভর করবে। যদি দেশটির মুদ্রাস্ফীতির হার 3%-এ (পূর্বাভাস) না পৌঁছায়, তাহলে ট্রেডারদের প্রতিক্রিয়ার প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।