আরও দেখুন
যখন MACD সূচকটি শূন্যের নিচের দিকে নামতে শুরু করছিল, তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1685 লেভেল টেস্ট করেছিল—যা ইউরো বিক্রির জন্য একটি সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করে। তবে পরবর্তীতে এই পেয়ারের উল্লেখযোগ্য দরপতন ঘটেনি।
গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায় যে যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার কনফিডেন্স ইনডেক্স বা ভোক্তা আস্থা সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে 92.8 পয়েন্টে পৌঁছেছে—যার ফলে মার্কিন ডলারের চাহিদা পুনরায় বেড়েছে, কিন্তু EUR/USD পেয়ারের বড় ধরনের দরপতন ঘটেনি। উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর মার্কিন ডলারের দর ছয়টি প্রধান কারেন্সির বিপরীতে শক্তিশালী হয়, কারণ ট্রেডাররা এটিকে মার্কিন অর্থনীতির সহনশীলতা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করছেন, যদিও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের চ্যালেঞ্জ বজায় রয়েছে। তবু আসন্ন মার্কিন ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির বৈঠক এই পেয়ারের বাই পজিশনের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং তীব্র প্রফিট-টেকিংয়ের প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে।
আজ দিনের প্রথমার্ধে ইউরোর মূল্যের সক্রিয় ওঠানামা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা আছে, কারণ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক প্রকাশের কথা রয়েছে ইউরোজোনের বেসরকারি খাতের ঋণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করে। ঋণের পরিমাণ স্থিতিশীলভাবে বৃদ্ধি পেলে তা ব্যাংকগুলোর ঋণদানের সক্ষমতা এবং ব্যবসায়িক ও গৃহস্থালীর পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিকে ইঙ্গিত করে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করে; অপর দিকে ঋণ বৃদ্ধির গতিতে মন্থরতা প্রতিফলিত হলে তা অর্থনৈতিক কার্যক্রমে মন্থরতা ও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাব নির্দেশ করতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোজোনের M3 মানি সাপ্লাই অ্যাগ্রিগেট সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জাতীয় অর্থনীতিতে গুলোর লিকুইডিটি সম্পর্কে অতিরিক্ত ধারণা প্রদান করবে।
জার্মানির কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা ভোক্তা মূল্য সূচক সম্পর্কিত প্রতিবেদনও বেশ গুরুত্বপূর্ণ হবে।মূল্যস্ফীতি স্বল্প মাত্রায় বৃদ্ধি পেলে তা সাধারণত ইতিবাচক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হয়; তবে মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হলে এটি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে এবং মুদ্রানীতি কঠোর করার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
দৈনিক কৌশলের ক্ষেত্রে আমি মূলত পরিকল্পনা #1 ও পরিকল্পনা #2 বাস্তবায়নের উপর বেশি নির্ভর করব।
পরিকল্পনা 1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1733-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1707-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1733-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ার কেনার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.1693-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1707 এবং 1.1733-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
পরিকল্পনা 1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1693-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। বিক্রেতাদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1673-এর লেভেল যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির অবনতি হলে আজ এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: বিক্রি করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের নিচে রয়েছে এবং শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.1707-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1693 এবং 1.1673-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।