আরও দেখুন
স্বর্ণের মূল্য 0.5 শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স $4,021.82-এ পৌঁছেছে, যার ফলে সোমবারের 2.9 শতাংশ দরপতনের কিছুটা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে। রুপার মূল্য 0.1 শতাংশ বেড়ে $57.70-এ পৌঁছেছে, অন্যদিকে প্ল্যাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের মূল্যও বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট দুই দিনের তীব্র দরপতনের পর বর্তমানে স্বর্ণের মূল্যের এই স্থিতিশীলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। গতকাল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ওপর অবরোধ পুনর্বহাল করেছেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে চলমান হামলা বিনিময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য পণ্যের জন্য 20 শতাংশ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তেল এবং ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির উদ্বেগ এবং কঠোর মুদ্রানীতির ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এটি স্বর্ণের জন্য একটি নেতিবাচক বিষয়, কারণ স্বর্ণ কোনো সুদ দেয় না।
স্বর্ণের আর্থিক প্রেক্ষাপটও উদ্বেগজনক বলে মনে হচ্ছে। ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার গতকাল বলেছেন যে, যদি মূল মুদ্রাস্ফীতি ব্যাপক মূল্যস্ফীতির চাপের ইঙ্গিত দিতে থাকে, তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক শীঘ্রই সুদের হার বাড়াতে পারে। এই মাসের শেষে সুদের হার এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট বাড়ানোর সম্ভাবনা কিছুদিন আগেও ১০ শতাংশের কম থেকে বেড়ে প্রায় ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশার বড় ধরনের পুনর্মূল্যায়ন নির্দেশ করে।
এই প্রান্তিকে স্বর্ণের দরপতনের মাত্রা নিম্নমুখী প্রবণতার গভীরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। দ্বিতীয় প্রান্তিকে 14 শতাংশ লোকসানের পর এই মাসেও ধাতুটির দরপতন অব্যাহত রয়েছে, যা ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে খারাপ ফলাফল ছিল। মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় এবং ট্রেজারি বন্ডের ক্রমবর্ধমান ইয়েল্ড বা লভ্যাংশের মধ্যে ফেড কর্তৃক কঠোর আর্থিক নীতিমালা গ্রহণের ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশাই এই চাপের কারণ বলে ব্যাখ্যা করা যায়। গত সপ্তাহে, স্বর্ণ-ভিত্তিক এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে, যা স্বর্ণের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করে।
সামষ্টিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সমস্ত নেতিবাচক কারণ সত্ত্বেও, বর্তমানে মার্কেটে আতঙ্কের তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এমন একটি চিত্র ফুটে উঠছে যেখানে মার্কেট দুটি বিপরীত শক্তির মাঝে এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে: একদিকে ফেডের কঠোর আর্থিক নীতিমালার প্রত্যাশা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার স্বল্পমেয়াদী চাপ, এবং অন্যদিকে স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার প্রতি এশীয় বিনিয়োগকারীদের কাঠামোগত আস্থা। মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদন এবং আজ দিনের শেষভাগে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্শের বক্তব্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে, যা নির্ধারণ করবে যে আগামী সপ্তাহগুলোতে এই শক্তিগুলোর মধ্যে কোনটি প্রাধান্য পাবে।
স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,062-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে করে স্বর্ণের মূল্যের $4,124-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,186 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $4,008 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $3,954-এ নেমে যেতে পারে, ও পরবর্তীতে সম্ভবত $3,914 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।