আরও দেখুন
মঙ্গলবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের বিদ্যমান নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় ছিল এবং আবারও দরপতনের শিকার হয়। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন ডলারের আরও শক্তিশালী হওয়ার পেছনে কোনো নতুন মৌলিক কারণ ছিল না, তবুও ট্রেডারদের মধ্যে মার্কিন ডলার ক্রয়ের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত তিন সপ্তাহ ধরেই এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে; এর একমাত্র গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হলো ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত প্রত্যাশা। অন্যান্য কারণগুলো মূলত টেকনিক্যাল অথবা মার্কেটের নিজস্ব মোমেন্টামের ওপর নির্ভরশীল। ট্রেডাররা হয়তো ডলার কিনছে কারণ গত দুই মাস ধরে এটির দর বেশ দৃঢ়ভাবে বাড়ছে—তবে আমাদের দৃষ্টিতে এটি খুব একটা জোরালো যুক্তি নয়। টানা দুই মাস ধরে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির মতো কোনো দৃঢ় ভিত্তি আছে বলে আমরা মনে করি না, কিন্তু মার্কেটের মুভমেন্ট অনেক সময় নিজস্ব নিয়মেই চলে। তাই, স্বল্প মাত্রার অস্থিরতার মধ্যে মার্কেটে বিদ্যমান প্রবণতা অনুযায়ী ট্রেড করাই বাস্তবসম্মত কৌশল হবে। যদিও এই সপ্তাহে খুব বেশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না, তবুও ট্রেডাররা এই পেয়ার বিক্রি করে চলেছেন।
মঙ্গলবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে তিনটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। প্রথমে এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়া থেকে বাউন্স করে 1.3319–1.3331-এর দিকে নেমে যায়। ওই জোন থেকে দুবার বাউন্সের ফলে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তবে উভয় ক্ষেত্রেই এই পেয়ারের মূল্য নিকটবর্তী লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়নি। অবশ্য, প্রথম শর্ট ট্রেডটি লাভজনক ছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন ডলার ও পাউন্ডের ক্ষেত্রে মৌলিক প্রেক্ষাপটের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে, কারণ ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দেয়। এর ফলে, ২০২৬ সালের দিতিয়ার্ধে মার্কিন ডলারের সার্বিক পরিস্থিতি আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। তবে বর্তমানে মার্কিন ডলারকে সহায়তা করতে পারে এমন আর কোনো অনুকূল বিষয় নেই।
বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3319–1.3331 জোনের নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3259–1.3267-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3319–1.3331 জোন থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3380–1.3386-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641, 1.3695, 1.3741। বুধবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানুফ্যাকচারিং ও সার্ভিস সেক্টরের বিজনেস অ্যাক্টিভিটি সংক্রান্ত সূচক প্রকাশিত হবে। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের আইএসএম সূচকগুলো মার্কেটে বেশি প্রভাব ফেলে থাকে; তবুও আজ যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখা উচিত।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।